ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ , ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
গণভোট নিয়ে ফ্যাসিবাদীরা অপপ্রচার চালাচ্ছে-আলী রীয়াজ রাজনৈতিক ও নির্বাচনি পরিবেশ কলুষিত হয়ে পড়েছে : বদিউল আলম মজুমদার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে খুন হদিস নেই জেল পালানো শত শত কারাবন্দির মাসে সাড়ে ৩ লাখ এনআইডির তথ্য বিক্রিতে আয় ১১ কোটি টাকা নীতিমালা, মূল্যবোধের কথা বলে উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয় : ড. দেবপ্রিয় পোস্টাল ব্যালটে অনিয়ম নির্দিষ্ট দলের পক্ষপাতের অভিযোগ সালাহউদ্দিনের ইইউতে তৈরি পোশাকের বাজার হারাচ্ছে বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের অবরোধে জনজীবনে নাভিশ্বাস এগারো দলীয় জোটে অসন্তোষ চরমে আবারও শৈত্যপ্রবাহের কবলে দেশ, বাড়ছে শীতের তীব্রতা খাগড়াছড়িতে ২০৩ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৬৩ নোয়াখালীতে ২৫০০ কেজি জাটকা জব্দ, আটক ৬ লাইটার জাহাজের সংকট নিরসনে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা আজ এসএসসি পরীক্ষা শুরু ২১ এপ্রিল হ্যাঁ ভোটে কী পাবেন, না ভোটে কী হারাবেন জানাবে সরকার এলপিজি গ্যাসের দখলে জ্বালানি বাজার অপারেশন ডেভিল হান্টে রাজধানীতে ৬৭ জন গ্রেফতার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিচার শুরু

দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে ১৫ সংস্কার প্রস্তাব-প্রতিশ্রুতি চায় সুজন

  • আপলোড সময় : ১৪-০১-২০২৬ ০৮:০৭:৪৫ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৪-০১-২০২৬ ০৮:০৭:৪৫ অপরাহ্ন
দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে ১৫ সংস্কার প্রস্তাব-প্রতিশ্রুতি চায় সুজন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাগরিক সমাজ কেবল ক্ষমতা পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের সুস্পষ্ট রূপরেখা দেখতে চায় বলে জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সে লক্ষ্যে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে বিচার, সংস্কার ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে থাকা দরকার বলে মনে করে সংস্থাটি। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে ১৫টি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাব ও প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে এসব প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন সুজনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার। সংলাপে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও উপস্থিত ছিলেন।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বহু প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জনের পরও গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বরং নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সুযোগে গত ১৫ বছরে দেশে এক ধরনের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থান সেই ধারার বিরুদ্ধে জনগণের ঐতিহাসিক প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্র মেরামতের এক নতুন সূচনার নাম। তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামনে তিনটি অগ্রাধিকার স্পষ্ট হয়ে ওঠে—বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কারের লক্ষ্যে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়।
সুজন জানায়, এসব সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রণীত হয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’। এই সনদকে তারা জনগণের দীর্ঘদিনের আন্দোলন, আত্মত্যাগ ও বঞ্চনার বিপরীতে গড়ে ওঠা একটি সামাজিক চুক্তি হিসেবে দেখছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে স্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন ও সময়বদ্ধ অঙ্গীকার থাকতে হবে। সংলাপে উত্থাপিত ১৫টি সংস্কার প্রস্তাব ও প্রতিশ্রুতির মধ্যে প্রথমেই গুরুত্ব পায় জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং সংবিধানে তফসিল হিসেবে বা উপযুক্তভাবে সংযুক্ত করার প্রতিশ্রুতি। একইসঙ্গে সনদের বৈধতা নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো আইনি প্রশ্ন না তোলা এবং এর বাস্তবায়নে সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা এই দাবিগুলোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অতীতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক দমন–পীড়নের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই ব্যবস্থা নিতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে মানবাধিকারসম্মত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার বিষয়ে ইশতেহারে স্পষ্ট রূপরেখা থাকা জরুরি। সুজন আরও দাবি করে, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে শক্তিশালী ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। বিচার বিভাগের চলমান সংস্কারকে সংহত করা, নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ প্রসঙ্গে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়, যার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে সুজন মনে করে। ক্ষমতার ভারসাম্য প্রসঙ্গে সংলাপে বলা হয়, নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগের মধ্যে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছাড়া গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয়। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমারেখা স্পষ্ট করা, সংসদের কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা এবং সংবিধানের সমান প্রয়োগের অঙ্গীকারও ইশতেহারে থাকতে হবে। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রশ্নেও সুজন স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে। সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা বাড়িয়ে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে তা পূরণের প্রতিশ্রুতি, নারী নির্যাতন রোধে শিক্ষাঙ্গণ, কর্মক্ষেত্র ও পাবলিক পরিসরে কার্যকর ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক দলে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর কৌশল ইশতেহারে থাকা দরকার বলে জানানো হয়। এছাড়া শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ক্ষমতা ও আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করা, নিয়মিত নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং আনোয়ার হোসেন বনাম বাংলাদেশ মামলার রায় অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার অঙ্গীকারও ১৫ দফার অংশ। স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মানসম্মত ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার রূপরেখা, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুস্পষ্ট পরিকল্পনা এবং বিশুদ্ধ বায়ু ও নিরাপদ পানীয় জলের সংকট সমাধানে রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ঘোষণার দাবিও জানায় সুজন। পাশাপাশি পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় ভারসাম্যপূর্ণ, আত্মমর্যাদাশীল ও জাতীয় স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির কথা তুলে ধরা হয়। ইন্দো–প্যাসিফিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ যেন সার্বভৌমত্ব, শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে হয়—সে প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে দেখতে চায় সংগঠনটি।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গত পাঁচ দশকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে অবক্ষয় ঘটেছে, তা না বদলালে গণতন্ত্র টেকসই হবে না। রাজনীতিকে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করার সংস্কৃতি ভাঙতে না পারলে নির্বাচনী সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ হবে না। তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন আর কেবল আশ্বাসে বিশ্বাস করে না। তারা দেখতে চায় কে কী সংস্কার করবে, কীভাবে করবে এবং কত সময়ের মধ্যে করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারই বলে দেবে—কারা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সত্যিকার অর্থে সম্মান জানাতে প্রস্তুত।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স